জেমিমাহ রডরিগেজ যখন কিশোরী বয়সে ভারতের নারী ক্রিকেট দলে জায়গা করে নিতে লড়ছিলেন, তখন তিনি নিজের মুখের একটি ছবি কেটে জাতীয় দলের জার্সির ছবির ওপর লাগিয়ে রাখতেন। প্রতিদিন সেই ছবির দিকে তাকিয়ে অনুপ্রেরণা পেতেন; যে স্বপ্নের শুরু হয়েছিল চার বছর বয়সে ভাইদের সঙ্গে রাস্তার ক্রিকেট খেলা থেকে।
বৃহস্পতিবার নবি মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ নেয়। রডরিগেজ খেলেন নারীদের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ইনিংস: অপরাজিত ১২৭ রানে ভারতের রেকর্ড ৩৩৯ রানের সফল রান তাড়া সম্পন্ন করে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে দেন। মাত্র ১১ দিন আগেই তিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে বাদ পড়েছিলেন। ম্যাচ শেষে তিনি ক্লান্তিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, চোখে জল; পরে জানান, “বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রায় প্রতিদিনই উদ্বেগে কেঁদেছি।”
অস্ট্রেলিয়া আগে ব্যাট করে ৩৩৮ রান তুলেছিল, ফিবি লিচফিল্ডের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও পেরি-গার্ডনারের অর্ধশতকে ভর করে। তখন মনে হচ্ছিল তাদের আট বছরের অপরাজিত ধারা চলবেই। কিন্তু রডরিগেজের গতি, স্ট্রোকপ্লে আর সাহসিকতায় অস্ট্রেলিয়া দিশেহারা হয়ে পড়ে। সহজ ক্যাচ মিস হয়, আর ম্যাচ ইতিহাসে জায়গা নেয়। ভারতের এই জয় শুধু মাঠে নয়; দেশজুড়ে নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। রবিবার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে ভারত, যেখানে নতুন চ্যাম্পিয়ন জন্ম নেবে; সম্ভবত এমন এক মুহূর্তে, যা নারী ক্রিকেটকে বাণিজ্যিক ও সামাজিকভাবে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
ফাইনাল হবে আগামী রোববার, নাবি মুম্বাইয়েই; যেখানে ভারত সুযোগ পাবে নিজেদের প্রথম নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়ার।