প্রিন্স অ্যান্ড্রু জানিয়েছেন, তিনি আর তাঁর কোনো রাজকীয় উপাধি বা সম্মাননা ব্যবহার করবেন না। এর মধ্যে “ডিউক অব ইয়র্ক” উপাধিও রয়েছে। জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক ও ভির্জিনিয়া জিউফ্রের মামলার কারণে যে বিতর্ক চলছে, তার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অ্যান্ড্রু বলেন, রাজপরিবার ও রাজতন্ত্রের স্বার্থে তিনি এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন। রাজা চার্লস ও প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে আলোচনা করেই বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।
ইতিহাসবিদদের মতে, কোনো ডিউকের উপাধি বাতিল হওয়া খুবই বিরল ঘটনা। শেষবার এমনটি হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, যখন রানী ভিক্টোরিয়ার এক নাতি জার্মান বাহিনীতে যোগ দেওয়ায় তাঁর উপাধি কেড়ে নেওয়া হয়। অনেকেই মনে করছেন, অ্যান্ড্রুর এই সিদ্ধান্ত রাজপরিবারের ভাবমূর্তি রক্ষা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অ্যান্ড্রু এখনো “প্রিন্স” উপাধি রাখবেন, কারণ এটি জন্মগত। তবে তিনি আর “এইচআরএইচ” (হিজ রয়্যাল হাইনেস) বা অন্য কোনো রাজকীয় দায়িত্ব বা সম্মান ব্যবহার করবেন না। তাঁর দুই মেয়ে প্রিন্সেস বিট্রিস ও ইউজেনি নিজেদের উপাধি ধরে রাখবেন। রাজপ্রাসাদের বড় অনুষ্ঠানে অ্যান্ড্রুর উপস্থিতি এখন থেকে সীমিত থাকবে।
২০১৯ সালে বিবিসিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অ্যান্ড্রু আরও সমালোচনার মুখে পড়েন। তিনি দাবি করেছিলেন, অভিযোগের দিন তিনি মেয়েকে নিয়ে বাইরে খেতে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে জানা যায়, তিনি ২০১০ সালের পরও এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। সম্প্রতি জিউফ্রের মৃত্যুর পর তাঁর লেখা বইয়ে নতুন অভিযোগ আসায় রাজপরিবারের ওপর চাপ বাড়ে, আর সেই চাপেই অ্যান্ড্রু উপাধি ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।