কিন্তু ফিলিস্তিনে শান্তি এখনও অনিশ্চিত

গাজার যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের ২০ দফা প্রস্তাবের কিছু শর্ত মেনে নিয়েছে হামাস, কিন্তু ফিলিস্তিনে শান্তি এখনও অনিশ্চিত|

গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘিরে চলমান নাটকে গত সপ্তাহে হামাস ট্রাম্পের ২০ দফা প্রস্তাবের কয়েকটি শর্ত মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিলো। অন্যান্যের মধ্যে তারা ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি ও গাজার থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়গুলোতে রাজি হয়েছে এবং ত্রাণ, পুনর্গঠন ও গাজার প্রশাসন সম্পর্কিত কিছু প্রস্তাবকে সাদরে গ্রহণ করেছে, তবে আর কয়েকটি মূল ইস্যুতে তারা স্পষ্ট সমর্থন দেয়নি।

ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে গাজায় হামলা বন্ধের আহ্বান জানালেন এবং রাতে সামাজিক মাধ্যমে উল্লেখ করলেন, তিনি ধারণা করেন ইসরায়েল সাময়িকভাবে বোমাবর্ষণ স্থগিত করেছে; কিন্তু একই শনিবারও ইসরায়েলি হামলায় গাজায় কমপক্ষে ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। ফলে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়া পরিস্থিতি ও কাগজে লেখা প্রতিশ্রুতির মধ্যে বড় ফাঁক রয়ে গেছে।

তারা জিম্মিদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ইসরায়েলে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির শর্তে সম্মত হয়েছে; গাজার শাসন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বা সম্মিলিত জাতীয় কাঠামোর কাছে হস্তান্তর করার কথা বলেছে, কিন্তু বিদেশি আধিপত্য বা সরাসরি বৈদেশিক শাসন মেনে নেবে না বলে কড়া অবস্থান নিয়েছে। অস্ত্র সমর্পণ, তৎক্ষণাৎ অবরোধ তুলে ফেলা এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশগ্রহণ, এসব ইস্যুতে হামাস এখনও স্পষ্ট না। হামাসের নেতারা বলিয়েছেন, পূর্ণ ইসরায়েলি দখল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা অস্ত্র ছাড়বে না।

নেতানিয়াহু বলেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করবে এবং প্রথম ধাপে সব জিম্মির অবিলম্বে মুক্তির প্রস্তুতি নেবে; তবু বদ্ধমূল বক্তব্যে তিনি হামাসকে “নিরস্ত্রীকরণ” করার হুমকি দিয়েছেন প্রস্তাবটি মেনে নেওয়া হোক বা না হোক। মাঠে ইসরায়েলি ট্যাংক ও বিমান হামলা থামেনি; খন ইউনিসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে গোলাবর্ষণ চলে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া সাধারণত ইতিবাচক, জাতিসংঘ মহাসচিব, কাতার, মিসর, ইউরোপীয় নেতারা সুযোগটিকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘বড় পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং পক্ষগুলোকে তা কাজে লাগাতে বলছেন। গাজার স্বজনরা ও বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এখনই আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে সন্দেহও রয়েছে। গাজার বহু মানুষ শঙ্কা করছেন, এটি কি স্থায়ী শান্তি হবে, নাকি স্বল্পমেয়াদী বিরতির পরে আবারও তীব্র সহিংসতা শুরু হবে? সংঘাতে নিহতদের সংখ্যা (২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে বলে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সংক্ষেপে: কাগজে কিছু শর্ত মেনে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু মাঠে অগ্নিগর্ভ অবস্থা, অস্ত্রসমর্পণ ও স্বতন্ত্র প্রশাসনিক বিষয়গুলোর অনিশ্চয়তা রেখে যায় প্রতিশ্রুতিকে আংশিক; বাস্তবে এটি শান্তির স্বরূপ হবে কি না, সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *