বিবিসির খবরে জানা গেছে, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের নেতৃত্বে থাকতে পারেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার টনি ব্লেয়ার। প্রস্তাবটি মার্কিন সমর্থন পেয়েছে বলে বলা হচ্ছে। এতে জাতিসংঘ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতায় ব্লেয়ার একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন পরিচালনা করবেন এবং পরবর্তীতে তা ফিলিস্তিনিদের হাতে হস্তান্তর করবেন। তবে তার কার্যালয় জানিয়েছে, গাজার জনগণকে বাস্তুচ্যুত করার মতো কোনো প্রস্তাবে তিনি সমর্থন দেবেন না।
ব্লেয়ারের নাম যেমন প্রভাবশালী, তেমনি বিতর্কিত। ২০০৩ সালে তিনি যুক্তরাজ্যকে ইরাক যুদ্ধে পাঠান—যা পরবর্তী তদন্তে তীব্র সমালোচিত হয় এবং প্রমাণিত হয় যে ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর তিনি মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক কোয়ার্টেট দূত হিসেবে কাজ করেন, যেখানে মূলত ফিলিস্তিনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পরিবেশ তৈরিতে মনোযোগ দেন। চলতি বছরের আগস্টে তিনি হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈঠকেও অংশ নেন।
এমন প্রেক্ষাপটে, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি ট্রাম্পসহ অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করতে প্রস্তুত। তিনি গাজায় ভবিষ্যৎ শাসনে হামাসের কোনো ভূমিকা মেনে নেবেন না এবং সংগঠনটির নিরস্ত্রীকরণ দাবি করেছেন। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে, যা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র “হামাসকে পুরস্কৃত করা” বলে নিন্দা করেছে। অন্যদিকে, গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে ইতিমধ্যে লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যদিও গণহত্যার অভিযোগ ইসরায়েল অস্বীকার করছে।