শাবানার সঙ্গে মিশার দেখা, যা যা রান্না করে খাওয়ালেন নায়িকা

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী শাবানা দীর্ঘ সময় ধরে দেশে থাকেন না। তাই দেশে চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট কোনো আয়োজনে তাঁর দেখা মেলে না। দুই যুগ ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শাবানা হঠাৎ হঠাৎ বাংলাদেশে আসেন। প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ করেন, প্রয়োজনীয় সব কাজ সেরে আবার নীরবেই চলে যান। তাই শাবানার সান্নিধ্য পাওয়াটা সত্যি সত্যিই খুব দুষ্কর। কোনো ধরনের সুযোগ তৈরি হলে চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্টরা দেশের চলচ্চিত্রের গুণী এই অভিনয়শিল্পীর সান্নিধ্য পাওয়া থেকে নিজেদের বঞ্চিত করতে চান না। যেমনটা এবার ঘটেছে চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী মিশা সওদাগরের ক্ষেত্রে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সুযোগ হয় শাবানার সঙ্গে দেখা করার। ছুটে যান নিউজার্সিতে শাবানার বাড়িতে। লম্বা সময় ধরে আড্ডা দেন, খাওয়াদাওয়া করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নিউজার্সিতে বাসায় দাওয়া দিয়ে মিশা সওদাগরকে খাবার তুলে দিচ্ছেন শাবানাছবি : মিশা সওদাগরের সৌজন্যে

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সূত্রে শাবানার সঙ্গে পরিচয় হয় মিশা সওদাগরের। একটা সময় তা পেশাগত সম্পর্ককে ছাপিয়ে অনেক বেশি পারিবারিক হয়ে ওঠে। শাবানা ও তাঁর প্রযোজক স্বামী ওয়াহিদ সাদিকের খুবই স্নেহভাজন একজন হয়ে ওঠেন মিশা সওদাগর। তাই তো দেশের বাইরে থাকলেও তাঁদের মাঝেমধ্যে ফোনে কথাবার্তা হয়। দেশে এলেও শাবানার বাসায় যাওয়া হতো তাঁর। মিশাও যুক্তরাষ্ট্রে গেলে সময় সুযোগ মিললে দেখা করেন শাবানার সঙ্গে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে শাবানার বাসায় দেখা করাটা তারই একরকম ধারাবাহিকতা মনে করছেন মিশা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ওজোন পার্কের সামনের রাস্তায় মিশা সওদাগরের সেলফিতে শাবানা ও তাঁর চলচ্চিত্র প্রযোজক স্বামী ওয়াহিদ সাদিক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ওজোন পার্কের সামনের রাস্তায় মিশা সওদাগরের সেলফিতে শাবানা ও তাঁর চলচ্চিত্র প্রযোজক স্বামী ওয়াহিদ সাদিক

সিনেমার শুটিং, ডাবিং ও চিত্রনায়ক ফেরদৌসের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে উড়াল দেন মিশা সওদাগর। দেশটিতে এই অভিনয়শিল্পীর স্ত্রী–সন্তানেরা থাকেন। এর মধ্যে যোগাযোগ হয় শাবানার সঙ্গেও। মিশাকে তাঁর বাড়িতে দাওয়াত করেন শাবানা। ২৮ ডিসেম্বর মিশা যান শাবানার নিউজার্সির বাড়িতে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে মিশা বলেন, ‘শাবানা আপা আমার জীবনে কী, তা আমিই জানি। চার বছর ধরে দেশে আসেননি তিনি। কথা হলেও আপার সঙ্গে দেখা হচ্ছিল না। মনটা চাইছিল, আপা-দুলাভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার। এবার সে সুযোগটা হয়ে কাজে লাগল। এত দিন পর তাঁদের সঙ্গে দেখা হয়ে অসাধারণ সময় কাটল। বাসায় চুটিয়ে আড্ডা দিয়েছি। আপা তো আমি যাব বলে অনেক কিছুই রান্না করেছেন। নিজের হাতে খাবার তুলে খাইয়েছেন।’

মিশা জানালেন, প্রিয় অভিনেত্রীর রান্নার পদের মধ্যে ছিল পোলাও, গরুর মাংস, মুরগির মাংস, রুই মাছ, ইলিশ মাছ, বেগুন ভাজি, সবজি ও ডাল। ‘নিজেই রান্না করেছেন আপা। আপার রান্না তো অতুলনীয়। বড় বোন হয়ে তিনি পরম মমতায় পাতে তুলে খাবার খাইয়ে দিয়েছেন, এ আন্তরিকতার অনুভূতি সত্যিই অন্য রকম।’ বললেন মিশা।

শাবানা

শাবানাছবি : মনজুর কাদের

আড্ডায় আর কী কী প্রসঙ্গ এসেছে এমন প্রশ্নে মিশা সওদাগর বলেন, ‘আপার সঙ্গে যখনই কথা হয়, সিনেমা নিয়ে তো আলোচনা হয়। তিনি সবার খোঁজখবর নিলেন। দেশের চলচ্চিত্র যে দেশ ও দেশের বাইরে সুনাম কুড়াচ্ছে, এসব তাঁকে গর্বিত করেছে বলে জানালেন।’

মাত্র আট বছর বয়সে সিনেমায় অভিনয়ে নাম লেখান শাবানা। এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ নামের ছবিতে তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেন। এরপর ‘চকোরী’ ছবিতে নায়িকা চরিত্রে অভিনয় শুরু। ১৭ বছর ধরে অভিনয় থেকে দূরে আছেন চলচ্চিত্রের গুণী এই অভিনয়শিল্পী। অভিনয়জীবনে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় হুট করেই যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। অভিনয়কে বিদায় জানালেও কোটি বাঙালির হৃদয়ে অভিনয়ের রানি হয়ে বসত গেড়ে আছেন শাবানা। তাই তো তাঁকে একটিবার কোথাও দেখা গেলে ভক্ত-দর্শক এমনকি সংবাদমাধ্যমেরও আগ্রহের কমতি থাকে না। ২৪ বছর ধরে সেখানে আছেন। স্বামী, সন্তান, নাতি-নাতনি নিয়ে তিনি নিউজার্সিতে স্থায়ীভাবে থাকছেন। একটা নির্দিষ্ট সময় পর বাংলাদেশে এলেও চার বছর ধরে আসা হয়নি। এর মধ্যে প্রযোজক স্বামী ওয়াহিদ সাদিক গত বছর কয়েক দিনের জন্য এসেছিলেন। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, পরের বছরে শাবানার দেশে আসার সম্ভাবনা আছে।

শাবানা ও তাঁর প্রযোজক স্বামী ওয়াহিদ সাদিক

শাবানা ও তাঁর প্রযোজক স্বামী ওয়াহিদ সাদিকছবি: মনজুর কাদের

১৯৮৬ সালে বিএফডিসির ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতা দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন মিশা সওদাগর। প্রথম ছবি পরিচালক ছটকু আহমেদের ‘চেতনা’। এ সিনেমায় নায়কের চরিত্রে অভিনয় করলেও নিজেকে তিনি খলনায়ক হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মিশার মতে, শাবানা প্রযোজিত ‘স্বামী কেন আসামী’ ছবিটি তাঁকে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

মিশা বলেন, ‘শাবানা আপার কাছে আমার আজন্ম ঋণ। তিনি আমাকে আজকের মিশা সওদাগর বানানোর সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আমি তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগটা মিস করতে চাইনি। আমার কাছে মনে হয়, আপা ও দুলাভাইয়ের সঙ্গে যতটা সময় থাকি, অনেক কিছু শিখি। তাঁর সঙ্গে কাটানো সময়ের অনুভূতি প্রকাশ করে বোঝানো যাবে না।’ Ref: Prothomalo

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *