বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে এক বিশাল ক্রিপ্টোকারেন্সি কেলেঙ্কারি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের বিটকয়েন জব্দ করেছে। এই ঘটনার মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন কম্বোডিয়ার ব্যবসায়ী ও প্রিন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান চেন ঝি। মার্কিন প্রসিকিউটররা তাঁর বিরুদ্ধে ‘ওয়্যার ফ্রড ষড়যন্ত্র’ ও ‘মানি লন্ডারিং’-এর অভিযোগ এনেছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, চেন ঝি তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণার এক বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।
প্রিন্স গ্রুপের অধীনে কম্বোডিয়ায় অন্তত ১০টি স্ক্যাম সেন্টার থেকে হাজার হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতারণা চালানো হতো। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এসব কেন্দ্রে মানব পাচার ও জোরপূর্বক শ্রমের ঘটনাও ঘটেছে। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন আইজেনবার্গ একে “মানবিক কষ্টের ওপর দাঁড়ানো অপরাধী নেটওয়ার্ক” হিসেবে আখ্যা দেন। অভিযোগে বলা হয়, চেন ঝি অবৈধ অর্থে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন; ব্যক্তিগত জেট, দামি ঘড়ি, শিল্পকর্ম ও এমনকি পিকাসোর একটি চিত্রকর্মও ক্রয় করেছিলেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ৪০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
অভিযানে যুক্তরাজ্যও অংশ নেয় এবং লন্ডনে চেন ঝির ১৯টি সম্পত্তি জব্দ করে, যার একটি ভবনের মূল্য ১৩৩ মিলিয়ন ডলার। ব্রিটিশ সরকার প্রিন্স গ্রুপসহ চারটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অপরাধী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করেছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার বলেন, এই নেটওয়ার্ক অসহায় মানুষের জীবন ধ্বংস করেছে এবং অবৈধ অর্থ লন্ডনে সম্পত্তি কিনে লুকিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা একে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান ও বিটকয়েন জব্দের সবচেয়ে বড় ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।