বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম সম্ভাবনা

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা এখন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এখানকার লবণ ও মিঠা পানির চিংড়ি শিল্প শুধু দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সুনামও বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সাতক্ষীরা ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৩–২৪ অর্থবছরে সাতক্ষীরায় ৫৯ হাজার ঘেরে প্রায় ২৭ হাজার টন বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে, যার রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৫ কোটি টাকা; গত বছরের তুলনায় ১৫০ কোটি টাকা বেশি। উৎপাদিত চিংড়ির ৯০ শতাংশই রপ্তানি হয় ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে। পাশাপাশি কাঁকড়া রপ্তানিতেও প্রবৃদ্ধি এসেছে প্রায় ৪৯ শতাংশ। স্থানীয় চাষিরা জানাচ্ছেন, চিংড়ি পোনায় ভাইরাস আক্রমণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকায় অনেকে বিকল্প হিসেবে কাঁকড়া ও সাদা মাছ চাষের দিকেও ঝুঁকছেন।

জেলায় বর্তমানে ১ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর এলাকায় বছরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়, যা স্থানীয় চাহিদার দ্বিগুণেরও বেশি। সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, দেশের অভ্যন্তরে মৎস্যচাষে সাতক্ষীরা এখন মডেল জেলায় পরিণত হয়েছে। এখানকার উৎপাদিত চিংড়ির দুই-তৃতীয়াংশই বিদেশে রপ্তানি হয়, আর সরকার চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ প্রদানে নিয়মিত সহযোগিতা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *