রাশিয়ার টানা ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চালানো বিমান হামলায় ইউক্রেনে অন্তত চারজন নিহত এবং ৭০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন ১২ বছরের মেয়েও রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, হামলার বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রাজধানী কিয়েভে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এটি সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ আক্রমণ। জেলেনস্কি বলেন, এ ধরনের “নীচু আক্রমণ” প্রমাণ করে যে মস্কো যুদ্ধ চালিয়ে যেতে এবং মানুষ হত্যা করতে চায়।
হামলায় ইউক্রেনের সাতটি অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিয়েভে একটি হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে হামলায় একজন নার্স ও একজন রোগী নিহত হন। এছাড়াও একটি বড় বেকারি, একটি রাবার কারখানা, আবাসিক ভবনসহ বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশে অন্তত ১০০টি বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো বলছে, পুরো এলাকায় বহু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে।
জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেন প্রতিশোধ নেবে এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়ার প্রত্যাশা করছেন। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া শুধু ইউক্রেন নয়, ন্যাটো দেশগুলোকেও পরীক্ষা করছে। এরই মধ্যে পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া ও রোমানিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ন্যাটো জানিয়েছে, তারা বাল্টিক সাগরে তাদের মিশন আরও জোরদার করবে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাড়াবে। এদিকে, রাশিয়া দাবি করেছে তারা ইইউ বা ন্যাটো রাষ্ট্র আক্রমণের পরিকল্পনা করছে না, তবে যেকোনো “আক্রমণ” হলে কঠোর জবাব দেবে।