গাজায় শুক্রবার সকাল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এ সময় ইসরায়েলি সেনারা আংশিকভাবে কিছু এলাকা থেকে সরে গিয়ে নতুন সীমারেখায় অবস্থান নিয়েছে। তবে তারা এখনো উপত্যকার অর্ধেক অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী হামাসকে বন্দী মুক্তি দিতে হবে এবং ইসরায়েলও কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি দেবে। একইসাথে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ ট্রাক ত্রাণ প্রবেশের কথা থাকলেও তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতেই হাজারো ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপে ভরা রাস্তায় পায়ে হেঁটে গাজার উত্তরের দিকে ফিরতে শুরু করেছেন। কেউ মাথায় হাঁড়ি-বালতি নিয়ে, কেউবা কাঁধে বস্তা বা হাতে সামান্য মালপত্র নিয়ে ফিরছেন নিজেদের ভাঙা ঘরে। অনেকের যাত্রাপথ দীর্ঘ ও কষ্টকর, খাবার ও পানির চরম অভাবে অনেকে দুর্বল ও অপুষ্ট দেখাচ্ছে। তবুও তারা বলছেন, “বাড়ি ধ্বংস হলেও, শুধু ধ্বংসস্তূপ হলেও, আমরা ফিরে যাবো।”
এদিকে ইসরায়েল বলছে তারা যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে, আর হামাস এখনো নিরস্ত্রীকরণের কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। গাজার ভেতরে ধ্বংসস্তূপ থেকে লাশ উদ্ধারের কাজ চলছে, খাদ্য, জ্বালানি ও পানির সংকট এখনো চরমে। এ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার শিশু। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা একে গণহত্যা আখ্যা দিলেও ইসরায়েল তা অস্বীকার করছে।