“একজন নারীও হতে পারে সফল কৃষি উদ্যোক্তা, যদি মাটি আর গাছকে ভালোবাসা যায়।”
অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রমে নীলফামারীর মাস্টার্সপড়া গৃহবধূ রুমা অধিকারী গড়ে তুলেছেন এক একর জমিতে ‘বৃন্দাবন অর্গানিক এগ্রো ফার্ম’ নামে উন্নত জাতের আম বাগান। উত্তর বালাপাড়া গ্রামের এই বাগানে রয়েছে ভিনদেশি জনপ্রিয় জাতের ৩০০টি আমগাছ; কিং অফ চাকাপাত, চ্যাংমাই, ডকমাই, কাটিমন, রেড পালমার, হানি ডিউসহ নানা জাত। লেট ভ্যারাইটির এসব আম মৌসুম শেষে বাজারজাত করা যায়, ফলে দামও বেশি মেলে। ২০২৪ সালে প্রথম ফলন থেকে দেড় লাখ টাকার বেশি আয় করে এবার তিনি চার লাখ টাকার ওপরে লাভের আশা করছেন।
রুমার কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার যাত্রা শুরু ২০২৩ সালে, রাজশাহী কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার্স পাসের প্রায় দুই দশক পর। স্বামীর সহযোগিতায় নিজের হাতে তিনি গাছ রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, সার দেওয়া থেকে শুরু করে সব কাজ শিখে নিয়েছেন। এখন বাগানে আমের সঙ্গে দার্জিলিং কমলা, ড্রাগন ও সুপারির গাছও রয়েছে। পুরো বাগানই অর্গানিক পদ্ধতিতে গড়া, যা ভবিষ্যতে বছরে ৩৫-৪০ লাখ টাকার ফলন দিতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
রুমার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এলাকার মানুষ। কৃষি কর্মকর্তারাও বলছেন, তার গল্প কেবল একজন নারীর অর্জন নয়; এটি প্রমাণ করে পরিকল্পনা, শ্রম আর ইচ্ছাশক্তি থাকলে কৃষিতেও গড়ে তোলা যায় টেকসই ভবিষ্যৎ। এখন রুমার নতুন স্বপ্ন, বাগান বড় করা, গরু পালন ও ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। তিনি বিশ্বাস করেন, “একজন নারীও হতে পারে সফল কৃষি উদ্যোক্তা, যদি মাটি আর গাছকে ভালোবাসা যায়।”